ISLAMIC CULTURE
| gift of almighty ALLAH |
যে চৌদ্দটি আমলে রিজিক বাড়ে!
প্রথম আমল : তাকওয়া ও তাওয়াক্কুল অবলম্বন করা
দ্বিতীয় আমল : তাওবা ও ইস্তেগফার করা
তৃতীয় আমল : আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা
চতৃর্থ আমল : নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পড়া
পঞ্চম আমল : আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা
ষষ্ঠ আমল : বারবার হজ-উমরা করা
সপ্তম আমল : দুর্বলের প্রতি সদয় হওয়া বা সদাচার করা
অষ্টম আমল : ইবাদতের জন্য ঝঞ্ঝাটমুক্ত হওয়া
নবম আমল : আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করা
দশম আমল : আল্লাহর পথে জিহাদ
একাদশ আমল : আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা
দ্বাদশ আমল : বিয়ে করা
ত্রয়োদশ আমল : অভাবের সময় আল্লাহমুখী হওয়া এবং তার কাছে দু‘আ করা
চতুর্দশ আমল : গুনাহ ত্যাগ করা, আল্লাহর দীনের ওপর সদা অটল থাকা এবং নেকীর কাজ করে যাওয়া।
লিখেছেনঃ আলী হাসান তৈয়ব
শায়খ ডঃ আব্দুর রহমান আস-সুদাইসের জীবন কথা!
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা। কেমন আছেন আপনারা সবাই?
আজ আমি কা’বা শরীফের প্রধান ইমাম শায়খ ডঃ আব্দুর রহমান আস-সুদাইস সর্ম্পকে কিছু জানাবো আপনাদের এবং উনার তেলাওয়াত করা পবিত্র আল-কুরআন আপনাদের শোনাবো।
তো আসুন প্রথমে আব্দুর রহমান আস-সুদাইস সর্ম্পকে কিছু জেনে নেই…
সঊদি আরবের আল-ক্বাসীম এলাকার বুকাইরিয়া শহরে তার জন্ম হয় ১৩৮২ হিজরীতে। তার মানে ২০১৪ সালে তাঁর বয়েস হলো মাত্র ৫৩ বছর। তিনি ছোট বেলা থেকেই খুব মেধাবী ছিলেন। প্রায় ১২ বছর বয়েসে তিনি পবিত্র কোরআনের হাফিয হন। লেখাপড়া করেছেন রিয়াদে। ১৯৯৫ সালে মক্কার উম্মুল ক্বুরা বিশ্ববিদ্যালয়-এর শরিয়া ফ্যাকাল্টি থেকে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন।
তিনি ছোট বেলার একটা ঘটনা বলতে গিয়ে খুব আবেগী হয়ে যান। ছোট বেলায় কি একটা দুষ্টুমি করেছিলেন ফলে তার মা তার ওপর রেগে যান। রেগে গিয়ে বলেনঃ তুই বের হয়ে যা, গিয়ে হারামাইনের ‘ইমাম’ হ।
আল্লাহ সুবহানাহু ও তায়ালা তার আম্মার এই দোয়া কবুল্ল করেছেন। তিনি কা’বা শরীফের ইমাম হওয়ার আগে অনেক ছোটবড় মসজিদের ইমামতিও করেছেন।
তিনি উম্মুল ক্বুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসর। তিনি শরীয়া কোর্টের বিচারপতিও ছিলেন। তাঁর এই গুরু দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি সব সময় শিক্ষকতার পেশাকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে কাছে টেনে নিয়েছেন। সৌদি সরকারের অনুমোদিত জামেয়াতুল মা’রেফা আল-আলামিয়্যাহ (নলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর) যার শিক্ষকতায় আছেন সৌদি গ্রান্ড মুফতি, ধর্মমন্ত্রী সহ অনেক উচ্চ পদস্থ উলামায়ে কেরাম।
তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা হলো ৯টা এবং আরো ৬ টি গ্রন্থ ও গবেষনা পত্র প্রকাশের অপেক্ষায় আছে।
তিনি খুবই বিনয়ী। সব সময় সাধারণ মানুষদের কাছে থাকতে ও সাথে থাকতে ভালোবাসেন। তিনি এখন কা’বা শরীফ ও মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম। কিন্তু এখনও তিনি ক্লিনারদের সাথে বসে ইফতার করতে ও খাবার খেতে পছন্দ করেন। তিনি সব সময় হাস্যোজ্জ্বল থাকেন। সবার সাথে হাসি মুখে মন খুলে কথা বলেন। খুব বিনয়ের সাথে নরম ও মিষ্টিস্বরে কথা বলেন। তিনি হাল্কা কৌতুক করতে ও চুটকি বলতে পছন্দ করেন। তবে, নামাযে দাড়ালেই কেঁদে ফেলেন।
শেখ সুদাইস একবার এক টিভি অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক মহিলা ফোন করে বলেনঃ আমি স্বপ্নে দেখেছি যে এক বড় বিখ্যাত শায়খ কা’বা শরীফে উলংগ হয়ে কা’বা শরীফ তাওয়াফ করছেন। তিনি আমার কোন আত্মীয় নন, বা কাছের কেউ নন। কিন্তু আমি তাকে খুব ভালো করেই চিনি। এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা কি?
তখন শেখ সুদাইস বললেনঃ সেই লোকের জন্যে সুসংবাদ, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট আছেন এবং তিনি গুনাহ থেকে মুক্ত হয়েছেন। তখন প্রশ্নকারী মহিলা বললেনঃ আমি যে শায়খকে স্বপ্ন দেখেছি তিনি হলেন ‘আপনি’ (শায়খ সুদাইস)। এ কথা শুনার সাথে সাথেই শায়খ সুদাইস অঝোর ধারায় কেঁদে দিলেন।
এবার আসুন উনার তেলাওয়াত করা পবিত্র আল-কুরআন শুনি
আপনাদের জন্য islamicambit team ওয়েব সাইট থেকে ই যেন সরাসরি শুনতে পারেন সেই ব্যাবস্থা করে দিয়েছেন।
প্রথমে এখানে ক্লিক করুন Listen Al-Quran
তারপর প্ল/play বাটন এ ক্লিক করুন আর মনযোগ দিয়ে শুনুন……….
আশা করি এই পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। কেমন ভালো লেগেছে তা কমেন্টস করে জানাবেন প্লিজ।
আর হ্যাঁ আপনাদের যে কোন পরামর্শ কিংবা মতামত আমাদের জানাতে লজ্জবোদ করবেন না কিন্তু।
ধন্যবাদ আপনাদের সকলকে
ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে দেখলেন ইকামত দিচ্ছে এমন অবস্থাই আপনি কি করবেন? সুন্নত পড়ে নিবেন? না জামাতে সামিল হবেন?
প্রথমেই একটি হাদীসের দিকে দৃষ্টি বুলিয়ে নেই। হাদীসটি হল- عن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا أقيمت الصلاة فلا صلاة إلا المكتوبة হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ যখন নামায শুরু হয়, তখন ফরজ নামায ছাড়া আর কোন নামায পড়া জায়েজ নয়। {সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-৪২১}
এবার ফজরের সুন্নাতের ব্যাপারে বর্ণিত কয়েকটি হাদীসের দিকে দৃষ্টি দেই। যেমন- عن عائشة رضي الله عنها قالت: لم يكن النبي صلى الله عليه و سلم على شيء من النوافل أشد منه تعاهدا على ركعتي الفجر হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত এর মত কোন নফল নামাযকে এত হিফাযত ও গুরুত্ব প্রদানকারী ছিলেন না। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-১১১৬, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-২৪৬৩}
عن عائشة عن النبى -صلى الله عليه وسلم- قال « ركعتا الفجر خير من الدنيا وما فيها হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ দুনিয়া ও তাতে যা কিছু আছে তা থেকে ফজরের দুই রাকাত উত্তম। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৭২১, তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-১৬৫০, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-১১০৭}
عن أبى هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : لا تتركوا ركعتي الفجر ولو طردتكم الخيل হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ অশ্বারোহী বাহিনী তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করলেও তোমরা ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] ছেড়ো না। {তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-১৬৪৭, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১২৬০, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৪২৫৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৯২৫৩}
ফজরের ফরজের আগে দুই রাকাত নামায সুন্নত। এ দুই রাকাত সুন্নত আদায়ের ক্ষেত্রে রাসুল সাঃ কী পরিমাণ গুরুত্বারোপ করেছেন তা আমরা উপরোক্ত কয়েকটি হাদীস থেকে স্পষ্টই বুঝতে পারছি। এরকম তাকীদ আর কোন সুন্নত নামাযের ক্ষেত্রে রাসূল সাঃ করেননি। যা বুখারীতে বর্ণিত হযরত আয়শা রাঃ এর হাদীস দ্বারা স্পষ্ট। আর আমরা একথাও ভাল করেই জানি যে, প্রতিটি বস্তু তার ঠিক সময়ে আদায় করাই উক্ত ইবাদতের দাবি। ফজরের দুই রাকাত আদায়ের সময় হল ফজরের ফরজ পড়ার আগে। তাই সে হিসেবে উপরে বর্ণিত ফজরের সুন্নত পড়ার তাকিদ সম্বলিত হাদীস সুনিশ্চিতভাবেই ফজরের ফরজ পড়ার আগে পড়ার জন্যই বলা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হল রাসূল সাঃ তো ফরজ নামায দাঁড়িয়ে গেলে কোন নামায পড়তে নিষেধ করেছেন। তাহলে ফজরের সুন্নত না পড়া অবস্থায় জামাত দাঁড়িয়ে গেলে গুরুত্বপূর্ণ ফজরের সুন্নত এর কি করবে? যেটি আসল আদায়ের সময় হল ফজরের ফরজ পড়ার আগে। এখনতো জামাতই দাঁড়িয়ে গেল। এখন করণীয় কি? এ ব্যাপারে রাসূল সাঃ থেকে সরাসরি কোন কিছুই আমরা পাই না। গুরুত্বপূর্ণ ফজরের সুন্নত যথাসময়ে আদায় করে জামাতে শরীক হবে? না আগে জামাত পড়ে তারপর সুন্নাত পড়বে? এর কোন সমাধান রাসূল সাঃ থেকে প্রমানিত নয়। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কি? এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় হল রাসুল সাঃ এর হাদীস শুনেছেন সাহাবাগণ। সাহাবাদের মাধ্যমে আমরা হাদীস পেয়েছি। সাহাবাগণ রাসূল সাঃ থেকে সরাসরি কথা শুনেছেন। স্বচক্ষে রাসূল সাঃ এর আমল দেখেছেন। তাই এক্ষেত্রে আমাদের কাছে সাহাবাগণ কর্তৃক সমাধান ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নেই। আমরা দেখতে পাই সাহাবাগণের মাঝে রাসূল সাঃ এর কাছের ও ফক্বীহ সাহাবাগণের অন্যতম হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ, রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ, হযরত আবু দারদা রাঃ, রাসূল সাঃ এর একনিষ্ট ভক্ত ও প্রতিটি কাজের একনিষ্ট অনুসারী হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ সহ অনেক সাহাবী ফজরের সুন্নত না পড়া অবস্থায় নামায দাঁড়িয়ে গেলেও আগে সুন্নত পড়ে, তারপর ফরজে শরীক হতেন। যেহেতু আমরা রাসূল সাঃ এর নামায সচক্ষে দেখিনি। তাই রাসূল সাঃ এর হাদীস আমরা যাদের মাধ্যমে পেলাম তাদের আমল এর কারণে বলে থাকি যে, ফজরের দুই রাকাত সুন্নত জামাত শুরু হলেও পড়ে নিতে হবে যদি নামায পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে সুন্নত বাদ দিয়ে ফরজ পড়ে নিবে। এ আমল আমাদের বের করা নয়। সাহাবাগন কর্তৃক আমল করা আমল। তাই আমরা নিজেদের বুঝ ও সমঝের উপর নির্ভর না করে সাহাবাগণের বুঝ ও সমঝের উপর নির্ভর করেছি। নিম্নে প্রসিদ্ধ সাহাবাগণের আমল উদ্ধৃত করা হল। হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ এর আমল عبد الله بن أبى موسى عن أبيه : حين دعاهم سعيد بن العاص دعا أبا موسى وحذيفة وعبد الله بن مسعود رضي الله عنهم قبل أن يصلى الغداة ثم خرجوا من عنده وقد أقيمت الصلاة فجلس عبد الله الى أسطوانة من المسجد فصلى الركعتين ثم دخل في الصلاة فهذا عبد الله قد فعل هذا ومعه حذيفة وأبو موسى لا ينكران ذلك عليه فدل ذلك على موافقتهما إياه (شرح معانى الأثار، كتاب الصلاة، باب الرجل يدخل المسجد والإمام في صلاة الفجر ولم يكن ركع أيركع أو لا يركع، رقم الحديث- 2037 আব্দুল্লাহ বিন মুসা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা সাঈদ বিন মুসা হযরত আবু মুসা আশআরী রাঃ, হযরত হুযায়ফা রাঃ এবং হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ কে ডাকলেন ফজরের নামাযের আগে। তারপর তারা বের হলেন তার [সাঈদ বিন মুসা রাঃ] নিকট থেকে এমতাবস্থায় যে, [ফজরের] নামায দাঁড়িয়ে গেছে। তখন আব্দুল্লাহ মসজিদের এক স্তম্ভের কাছে বসে গেলেন। তারপর দুই রাকাত [ফজরের সুন্নাত] নামায পড়লেন। তারপর নামাযে [ফরজের জামাতে] শরীক হলেন। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ একাজটি করলেন। সাথে ছিলেন হুযায়ফা ও আবু মুসা রাঃ। কিন্তু তাদের কেউ এটা বারন করেননি। সুতরাং এটি প্রমাণ বহন করে যে, তারাও এতে রাজি ছিলেন। {তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২০৩৭} عن أبى إسحاق عن عبد الله بن أبى موسى عن عبد الله : انه دخل المسجد والإمام في الصلاة فصلى ركعتي الفجر (رقم الحديث-2038) আব্দুল্লাহ বিন আবী মুসা আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে, ইমাম সাহেব ছিলেন নামাযে, তখন তিনি [আগে] ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লেন। {তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২০৩৮} হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ এর আমল عن أبى مجلز قال : دخلت المسجد في صلاة الغداة مع بن عمر وابن عباس رضي الله عنهم والإمام يصلى فأما بن عمر رضي الله عنهما فدخل في الصف وأما بن عباس رضي الله عنهما فصلى ركعتين ثم دخل مع الإمام (رقم الحديث-3029 আবী মিজলাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ফজরের নামাযে একদা ইবনে ওমর রাঃ, ইবনে আব্বাস রাঃ এর সাথে মসজিদে প্রবেশ করলাম এমতাবস্থায় যে, ইমাম সাহেব নামায পড়াচ্ছিল। তখন ইবনে ওমর রাঃ কাতারে শামিল হয়ে গেলেন। আর ইবনে আব্বাস রাঃ দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লেন। তারপর ইমামের সাথে নামাযে শরীক হলেন। {শরহু মাআনিল আসার, হাদীস নং-৩০২৯}
عن أبى عثمان الأنصاري قال : جاء عبد الله بن عباس والإمام في صلاة الغداة ولم يكن صلى الركعتين فصلى عبد الله بن عباس رضي الله عنهما الركعتين خلف الإمام ثم دخل معهم وقد روى عن بن عمر مثل ذلك আবু উসমান আলআনসারী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস এমতাবস্থায় এলেন যে, ইমাম সাহেব ফজরের নামায পড়াচ্ছিলেন। আর তিনি ফজরের [সুন্নত] দুই রাকাত পড়েননি। তাই আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লেন ইমামের পিছনে। তারপর তিনি ইমামের সাথে শরীক হলেন। ইবনে ওমর রাঃ এর ব্যাপারেও এমনি বর্ণিত। {তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২০৪০}
আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ এর আমল نافعا يقول : أيقظت بن عمر رضي الله عنهما لصلاة الفجر وقد أقيمت الصلاة فقام فصلى الركعتين হযরত নাফে বলেনঃ আমি ইবনে ওমর রাঃ কে ফজরের নামাযের জন্য জাগালাম এমতাবস্থায় যে, ফজরের নামায জামাত দাঁড়িয়ে গেছে। তখন তিনি ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লেন। {শরহু মাআনিল আসার, হাদীস নং-২০৪২}
হযরত আবু দারদা রাঃ এর আমল عن أبى الدرداء : أنه كان يدخل المسجد والناس صفوف في صلاة الفجر فيصلى ركعتين في ناحية المسجد ثم يدخل مع القوم في الصلاة আবু দারদা থেকে বর্ণিত। তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে, লোকেরা ফজরের নামাযের কাতারে ছিল, [তথা নামায শুরু করে দিয়েছে] তখন তিনি ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লেন মসজিদের কিনারায়,তারপর লোকদের সাথে নামাযে শরীক হলেন। {তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২০৪৪}
হযরত ওমর রাঃ এর জমানায় সাহাবায়ে কেরামের আমল عن أبى عثمان النهدي قال : كنا نأتي عمر بن الخطاب رضي الله عنه قبل أن نصلى ركعتين قبل الصبح وهو في الصلاة فنصلى ركعتين في آخر المسجد ثم ندخل مع القوم في صلاتهم আবু উসমান আননাহদী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমরা ওমর বিন খাত্তাব রাঃ এর কাছে এলাম ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত পড়ার আগে। তখন তিনি নামাযরত ছিলেন। তখন আমরা মসজিদের শেষ মাথায় ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লাম। তারপর লোকদের সাথে নামাযে শরীক হলাম। {শরহু মাআনিল আসার, হাদীস নং-২০৪৬}
তাবেয়ী মাসরূক রহঃ এর আমল الشعبي يقول : كان مسروق يجىء الى القوم وهم في الصلاة ولم يكن ركع ركعتي الفجر فيصلى ركعتين في المسجد ثم يدخل مع القوم في صلاتهم শাবী থেকে বর্ণিত। মাসরূক লোকদের কাছে এমন সময় এলেন যখন তারা নামায পড়ছিল। তিনি সে সময় ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] পড়েন নি। তাই তিনি মসজিদে দুই রাকাত [সুন্নত] পড়লেন,তারপর লোকদের সাথে নামাযে শরীক হলেন। {তাহাবী শরীফ,হাদীস নং-২০৪৮}
তাবেয়ী হাসান বসরী রহঃ এর আমল يزيد بن إبراهيم عن الحسن : أنه كان يقول إذا دخلت المسجد ولم تصل ركعتي الفجر فصلهما وان كان الإمام يصلى ثم ادخل مع الإمام ইয়াযিদ বিন ইবরাহীম হাসান [বসরী রহঃ} থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, তুমি যদি এমতাবস্থায় মসজিদে প্রবেশ কর যে, তুমি ফজরের দুই রাকাত [সুন্নত] পড়নি, তাহলে তা পড় যদিও ইমাম নামায পড়াচ্ছে। তারপর ইমামের সাথে শরীক হও। {তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২০৫০}
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
প্রিয় ভাই, আর কয়দিন পরেই পালিত হবে শবে বরাত। সে দিন সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হবে। হালুয়া-রুটি খাওয়ার ধুম পড়ে যাবে। অনুষ্ঠিত হবে মিলাদ মাহফিল ও জিকিরের মজলিস। সেই সাথে মুর্হুমূহু আতশবাজিতে কেঁপে কেঁপে উঠবে শবে বরাতের রাতের আকাশ। আরও দেখা যাবে মসজিদের আঙ্গিনাতে যাদের পদ যুগল পড়ত না সে রাতে তারাই আতর-সুগন্ধি মেখে টুপি-পাঞ্জাবী পরে মসজিদের প্রথম কাতারে মুসল্লী সেজে অবস্থান করছে আর বিশেষ কিছু এবাদত-বন্দেগী করে মনে করবে জীবনের সব গুনাহ মাফ হয়ে গেছে। তারপর দিন সকাল থেকে লিপ্ত হবে যাবতীয় অন্যায়-অপকর্ম, দুর্নীতি আর আল্লাহর নাফরমানীতে। হয়ত সে দিনকার ফজরের নামায পড়ারও সময় হবে না। আর অপেক্ষায় থাকবে আগামী বছর শবে বরাতের। এভাবে আরও কত কি? আমাদের সমাজের এ অবস্থায় আমরা জানার চেষ্টা করি একাজগুলো কতটুকু ইসলাম সমর্থিত?
যে সকল ইবাদতের ক্ষেত্রে ইসলাম সমর্থন দেয় নি সেটা ইসলামের নামে করাই তো বিদআত। বিদআতের পরিণাম অতি ভয়ানক। এ ব্যাপারে কুরআনও হাদীসে অসংখ্য সতর্কতা উচ্চারিত হয়েছে। তাই আসুন, আমরা নিজেরা বিদআত থেকে বাঁচি সেই সাথে বাঁচানোর চেষ্টা করি আমাদের সমাজকে। আল্লাহ আমাদেরকে তাওফীক দান করুন।
প্রিয় ভাই, আর কয়দিন পরেই পালিত হবে শবে বরাত। সে দিন সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হবে। হালুয়া-রুটি খাওয়ার ধুম পড়ে যাবে। অনুষ্ঠিত হবে মিলাদ মাহফিল ও জিকিরের মজলিস। সেই সাথে মুর্হুমূহু আতশবাজিতে কেঁপে কেঁপে উঠবে শবে বরাতের রাতের আকাশ। আরও দেখা যাবে মসজিদের আঙ্গিনাতে যাদের পদ যুগল পড়ত না সে রাতে তারাই আতর-সুগন্ধি মেখে টুপি-পাঞ্জাবী পরে মসজিদের প্রথম কাতারে মুসল্লী সেজে অবস্থান করছে আর বিশেষ কিছু এবাদত-বন্দেগী করে মনে করবে জীবনের সব গুনাহ মাফ হয়ে গেছে। তারপর দিন সকাল থেকে লিপ্ত হবে যাবতীয় অন্যায়-অপকর্ম, দুর্নীতি আর আল্লাহর নাফরমানীতে। হয়ত সে দিনকার ফজরের নামায পড়ারও সময় হবে না। আর অপেক্ষায় থাকবে আগামী বছর শবে বরাতের। এভাবে আরও কত কি? আমাদের সমাজের এ অবস্থায় আমরা জানার চেষ্টা করি একাজগুলো কতটুকু ইসলাম সমর্থিত?
যে সকল ইবাদতের ক্ষেত্রে ইসলাম সমর্থন দেয় নি সেটা ইসলামের নামে করাই তো বিদআত। বিদআতের পরিণাম অতি ভয়ানক। এ ব্যাপারে কুরআনও হাদীসে অসংখ্য সতর্কতা উচ্চারিত হয়েছে। তাই আসুন, আমরা নিজেরা বিদআত থেকে বাঁচি সেই সাথে বাঁচানোর চেষ্টা করি আমাদের সমাজকে। আল্লাহ আমাদেরকে তাওফীক দান করুন।
কিন্তু তোমরা নসীহতকারীদেরকে পছন্দ কর না…
কথাটি সালিহ আলাইহিস সালাম সামূদ জাতির উদ্দেশ্যে বলেছিলেন – যা আল কুরআনে সূরা আরাফের ৭৯ নম্বর আয়াতে উদ্ধৃত হয়েছে।
নসীহত অর্থ সহজ ভাষায় সদুপদেশ। পরস্পরকে নসীহত করা, সৎ কাজে আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ করা দ্বীন ইসলামের একটি অন্যতম শিক্ষা ও মূলনীতি।
নসীহত করলে অনেকেই রেগে যান। অনেক সময় ইসলামের প্রতি মানুষকে আহ্বানকারী দাঈদের মাঝেও এই দুর্বলতা দেখা যায়। নসীহতের জবাবে তারা নসীহতকারীকে তিরস্কার করেন, নসীহতকারীর বক্তব্য খণ্ডন করতে উঠে-পড়ে লেগে যান, বরং কখনও পাল্টা নসীহতকারীর অপরাধের লিস্ট তৈরী করতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন!
বাস্তবতা এই যে মানুষ তার প্রশংসাকারীকে ভালবাসে, নসীহতকারীকে অপছন্দ করে। প্রশংসাকারী যদি কোন খারাপ গুণেরও প্রশংসা করে, সে সাধুবাদ পায়। নসীহতকারী যদি সত্যিই যা দোষ – সেটার দিকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তা সত্ত্বেও সে নিন্দিত হয়।
মুসলিমদের উচিৎ এই দৃষ্টিভঙ্গীতে পরিবর্তন আনা। নসীহতকারীরা আমাদের প্রকৃত বন্ধু। তারা আমাদেরকে সংশোধন করার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার শাস্তি থেকে আমাদেরকে রক্ষা পাওয়ার পথ করে দিচ্ছেন। নসীহতকারীকে শুকরিয়া জানানো উচিৎ, ধিক্বার নয়। নসীহতকারীদেরকে অপছন্দ করা নবী-রাসূলদের বিরোধিতাকারী অবিশ্বাসীদের বৈশিষ্ট্য।
সেই সাথে নসীহত করতে হবে আদবের সাথে, নম্রতার সাথে, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সাথে। একদিকে যেমন নসীহতকে স্বাগত জানানোর লোকের অভাব, অপরদিকে সঠিকভাবে নসীহত করতে জানা লোকের সংখ্যাও নিতান্তই কম।
আমাদের দরকার নসীহতের পথ ও পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান এবং নসীহতকারীর প্রতি উদার মনোভাব।
মন্তব্যসমূহ